ভারতে আবারও বেড়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয়বারের মতো জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। নতুন করে প্রতি লিটারে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ পয়সা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এর আগে চলতি মাসেই প্রায় ৩ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছিল। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার কারণেই দেশের বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের জ্বালানি বাজারে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম দ্রুত বাড়ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও যেখানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল প্রায় ৭৮ ডলার, এখন সেই দাম ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এর ফলে তেল বিপণন সংস্থাগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে এবং সেই প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে।
রাজধানী দিল্লিতে এখন প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৮.৬৪ টাকা। ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯১.৫৮ টাকা প্রতি লিটার। আগের তুলনায় উভয় জ্বালানির দামই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
দেশের অন্যান্য বড় শহরেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। মুম্বাইতে পেট্রোলের দাম এখন ১০৭.৫৯ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯৪.০৮ টাকা প্রতি লিটার। কলকাতায় পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে ১০৯.৭০ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯৬.০৭ টাকা। চেন্নাইতে পেট্রোলের দাম ১০৪.৪৯ টাকা ও ডিজেলের দাম ৯৬.১১ টাকা প্রতি লিটার হয়েছে। বেঙ্গালুরুতেও জ্বালানির দাম অনেকটাই বেড়েছে।
বিশেষ করে কলকাতায় এবারের মূল্যবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। সেখানে পেট্রোলের দাম প্রায় ১ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে শুধু গাড়ি চালানোর খরচই বাড়ে না, তার সঙ্গে বাড়তে থাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও। কারণ ট্রাক, বাস ও অন্যান্য পরিবহনের খরচ বেড়ে গেলে বাজারে পণ্য পৌঁছানোর খরচও বেড়ে যায়। এর ফলে সবজি, খাদ্যপণ্য এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসের দামও বাড়তে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ে, তাহলে আগামী দিনেও দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আবার বাড়তে পারে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
জ্বালানির ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে। প্রতিদিন অফিস যাতায়াত, বাজার খরচ এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ায় অনেকের মাসিক বাজেট ভেঙে পড়ছে।
এদিকে তেলের দাম বাড়ার কারণে ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক বাজারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
উপসংহার
ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এখন সাধারণ মানুষের বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে দেশের কোটি কোটি মানুষের।

