Site icon originalkhabar

চীনের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা! ভোগ ও শিল্প উৎপাদন কমে এপ্রিলে প্রবৃদ্ধি মন্থর

এপ্রিলে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কমেছে। খুচরা বিক্রি, শিল্প উৎপাদন ও আবাসন বিনিয়োগে দুর্বলতা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

এপ্রিল মাসে চীনের অর্থনীতির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুযায়ী, খুচরা বিক্রি, শিল্প উৎপাদন এবং বিনিয়োগ—সব গুরুত্বপূর্ণ খাতেই প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এর ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি চীনের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাও এখনও দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি দেখা যাচ্ছে উৎপাদন ও ভোগ খাতে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে চীনের খুচরা বিক্রি গত বছরের তুলনায় মাত্র ০.২ শতাংশ বেড়েছে। মার্চ মাসে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ১.৭ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা আশা করেছিলেন অন্তত ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হবে। ফলে বাস্তব ফলাফল বাজারের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম এসেছে।

শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। এপ্রিল মাসে শিল্প উৎপাদন বেড়েছে ৪.১ শতাংশ, যেখানে আগের মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৭ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসও ছিল এর চেয়ে বেশি। এতে বোঝা যাচ্ছে, কারখানা ও উৎপাদন খাতেও চাপ বাড়ছে।

বিশেষ করে আবাসন খাতের মন্দা এখনও চীনের অর্থনীতির বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ প্রায় ১৩.৭ শতাংশ কমেছে। নতুন বাড়ি নির্মাণ এবং সম্পত্তি বিক্রি কমে যাওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চীনের সাধারণ মানুষ এখন বড় ধরনের কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন। গাড়ি, বাড়ি এবং দামি গৃহস্থালি পণ্যের বিক্রি আগের তুলনায় কমেছে। অনেকেই চাকরির ভবিষ্যৎ এবং আয় নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় খরচ কমাচ্ছেন।

তবে প্রযুক্তি ও AI-সম্পর্কিত কিছু খাতে এখনও ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। বিদেশি বাজারে AI পণ্য ও প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ায় চীনের রপ্তানি খাত কিছুটা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো উৎপাদন বাড়িয়ে বিদেশি অর্ডার পূরণ করার চেষ্টা করছে।

চীনের অর্থনীতি নিয়ে বাজারে উদ্বেগ বাড়লেও সরকারি কর্মকর্তারা এখনও আশাবাদী। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর মুখপাত্র জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক চাপ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেও চীনের অর্থনীতি “সহনশীলতা” দেখাচ্ছে।

এদিকে শহুরে বেকারত্বের হার সামান্য কমে ৫.২ শতাংশে নেমে এসেছে। মার্চ মাসে এই হার ছিল ৫.৪ শতাংশ। ফলে চাকরির বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যদি আগামী মাসগুলোতেও ভোগ ও বিনিয়োগের গতি দুর্বল থাকে, তাহলে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ধীর হতে পারে। তবে সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে পারে।

সব মিলিয়ে

এপ্রিল মাসের তথ্য স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে চীনের অর্থনীতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দুর্বল ভোগ, আবাসন খাতের সংকট এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

Exit mobile version