ভারতের অন্যতম বড় শিল্পপতি Mukesh Ambani আবারও বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন। এবার তাঁর নজর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI খাতে। পাশাপাশি জিও আইপিও নিয়েও নতুন করে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
সম্প্রতি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের বার্ষিক সভায় একাধিক বড় ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর থেকেই দেশজুড়ে ব্যবসায়ী মহল, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে কৌতূহল।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে AI খাতে বিশাল বিনিয়োগ নিয়ে। জানা গেছে, রিলায়েন্স আগামী কয়েক বছরে প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
এই সিদ্ধান্তকে ভারতের প্রযুক্তি খাতের বড় পরিবর্তন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
AI খাতে বড় পরিকল্পনা
মুকেশ আম্বানি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের প্রযুক্তিতে ভারতকে আরও শক্তিশালী করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি মনে করেন, যেভাবে জিও ভারতের মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে বদলে দিয়েছিল, ঠিক একইভাবে AI সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছে দিতে হবে।
এই কারণেই রিলায়েন্স নতুন AI অবকাঠামো তৈরি করতে চাইছে।
গুজরাটের জামনগরে বিশাল ডেটা সেন্টার তৈরি করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এই ডেটা সেন্টার AI প্রযুক্তির জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই প্রকল্পে সবুজ শক্তি ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ পরিবেশের দিকটিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত?
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে AI প্রযুক্তি নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে।
আমেরিকা, চীন এবং ইউরোপের বড় বড় কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই AI খাতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে।
এখন ভারতও সেই দৌড়ে আরও শক্তভাবে নামতে চাইছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিলায়েন্সের এই বিনিয়োগ ভারতের প্রযুক্তি খাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।
এছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা এবং অনলাইন পরিষেবায় AI ব্যবহারের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে পারে।
অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে AI সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠবে।
জিও আইপিও নিয়েও বাড়ছে আগ্রহ
AI ঘোষণার পাশাপাশি জিও আইপিও নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই বাজারে জল্পনা ছিল যে রিলায়েন্স জিওকে শেয়ারবাজারে আনা হবে।
কারণ জিও বর্তমানে ভারতের অন্যতম বড় টেলিকম কোম্পানি।
তবে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আইপিও প্রক্রিয়ায় কিছুটা ধীরগতি দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় বিনিয়োগকারীরা এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
তাই জিও আইপিও নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রিলায়েন্স আরও কিছুটা সময় নিতে পারে।
তবুও বাজারে আগ্রহ কমেনি।
কারণ অনেকেই মনে করছেন, জিও আইপিও ভারতের ইতিহাসের অন্যতম বড় IPO হতে পারে।
AGM-এ সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দ ছিল AI
রিলায়েন্সের বার্ষিক সাধারণ সভা বা AGM-এ এবার সবচেয়ে বেশি শোনা গেছে “AI” শব্দটি।
জানা গেছে, সভায় প্রায় ৮০ বারের বেশি AI নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ভবিষ্যতের ব্যবসায় AI-কে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে রিলায়েন্স।
মুকেশ আম্বানি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রিলায়েন্স আর শুধু তেল বা টেলিকম কোম্পানি হয়ে থাকতে চায় না।
তারা এখন বড় প্রযুক্তি কোম্পানিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে।
বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্ব
শুধু ভারতেই নয়, বিদেশি প্রযুক্তি কোম্পানির সঙ্গেও কাজ করার পরিকল্পনা করছে রিলায়েন্স।
খবর অনুযায়ী, বড় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে AI অবকাঠামো তৈরির বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এছাড়াও ওপেন সোর্স AI প্রযুক্তি নিয়েও কাজ হতে পারে।
এর ফলে ছোট ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ব্যবহারকারীরাও কম খরচে AI পরিষেবা পেতে পারেন।
কর্মসংস্থানে বড় প্রভাব পড়তে পারে
AI খাতে বড় বিনিয়োগের ফলে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে সফটওয়্যার, ডেটা সায়েন্স, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং সাইবার সিকিউরিটি খাতে চাহিদা বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অনেক তরুণ এখন থেকেই AI শেখার দিকে ঝুঁকছেন।
কারণ ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে AI দক্ষতা খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সাধারণ মানুষের কী লাভ হবে?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন এটিই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, AI প্রযুক্তি সস্তা এবং সহজ হলে সাধারণ মানুষও দ্রুত এর সুবিধা পাবেন।
যেমন —
অনলাইন শিক্ষা আরও উন্নত হতে পারে।
হাসপাতালে দ্রুত রিপোর্ট তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
ছোট ব্যবসাগুলোও AI ব্যবহার করে কাজ সহজ করতে পারবে।
এমনকি মোবাইল পরিষেবাতেও বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
সামনে কী হতে পারে?
বর্তমানে সবাই নজর রাখছে রিলায়েন্সের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
AI প্রকল্প কত দ্রুত শুরু হয় এবং জিও আইপিও কবে আসে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
তবে একটা বিষয় পরিষ্কার।
মুকেশ আম্বানির এই নতুন পরিকল্পনা শুধু ব্যবসার দুনিয়াতেই নয়, প্রযুক্তির ভবিষ্যত নিয়েও বড় আলোচনা তৈরি করেছে।
ভারতের প্রযুক্তি বাজারে আগামী কয়েক বছরে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।