মধ্যপ্রদেশের Bhopal-এ ত্বিষা শর্মার রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। কথিত যৌতুক-নির্যাতন ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগে এবার রাস্তায় নেমেছে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের সংগঠন ‘ভার্দি সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’। বুধবার সংগঠনের পক্ষ থেকে ভোপালে একটি বড় বাইক র্যালির আয়োজন করা হয়, যেখানে শতাধিক প্রাক্তন সেনাসদস্য এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
৩৩ বছর বয়সী ত্বিষা শর্মার মৃত্যু ঘটনার পর থেকেই তাঁর পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই ত্বিষাকে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং এর পেছনে যৌতুকের জন্য মানসিক নির্যাতন ও চাপ ছিল। পরিবারের দাবি, এটি কোনও স্বাভাবিক মৃত্যু নয় এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
ত্বিষার পরিবারের পক্ষ থেকে দিল্লির All India Institute of Medical Sciences (AIIMS)-এ পুনরায় ময়নাতদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে। তাঁদের মতে, দ্বিতীয়বার পোস্টমর্টেম হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও পরিষ্কারভাবে সামনে আসতে পারে।
প্রাক্তন সেনাকর্মীদের কড়া বার্তা
অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল শ্যাম শ্রীবাস্তবের নেতৃত্বে এই বাইক র্যালি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে ডিজিপি কার্যালয়ের দিকে যায়। প্রতিবাদকারীদের হাতে ছিল “Justice for Twisha Sharma” লেখা পোস্টার এবং ব্যানার।
র্যালিতে অংশ নেওয়া প্রাক্তন সেনাকর্মীরা বলেন, দেশের আইনের চোখে সবাই সমান। কোনও প্রভাবশালী পরিবার বা উচ্চপদস্থ পরিচয়ের কারণে তদন্তে পক্ষপাতিত্ব করা উচিত নয়। তাঁদের অভিযোগ, এই মামলার তদন্তে এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট স্বচ্ছতা দেখা যাচ্ছে না।
শ্যাম শ্রীবাস্তব বলেন, “আমরা চাই সত্য সামনে আসুক। যদি নিরপেক্ষ তদন্ত করা হয়, তাহলে প্রকৃত ঘটনা অবশ্যই প্রকাশ পাবে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি
বিক্ষোভকারীরা মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল এবং পুলিশ মহাপরিচালকের উদ্দেশ্যে স্মারকলিপি জমা দেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রতিবাদকারীরা আরও জানান, শুধুমাত্র ত্বিষা শর্মার জন্য নয়, যৌতুক-নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক বার্তা দিতেই এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। তাঁদের মতে, দেশে এখনও বহু নারী যৌতুকের চাপে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবাদ
ত্বিষা শর্মা মৃত্যু মামলা এখন ভোপালের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। দিল্লির Jantar Mantar-এ সম্প্রতি ত্বিষার বন্ধু, আত্মীয়স্বজন এবং প্রাক্তন সহকর্মীরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ দেখান।
এছাড়া Hathras-এ মোমবাতি মিছিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাঁরা দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
পুনের Indira University-এ, যেখানে ত্বিষা পড়াশোনা করেছিলেন, সেখানেও তাঁর স্মরণে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দ্বিতীয় পোস্টমর্টেম নিয়ে পুলিশের অবস্থান
Sanjay Kumar জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে দ্বিতীয়বার পোস্টমর্টেমের আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং এতে পুলিশের কোনও আপত্তি নেই। তিনি বলেন, আবেদনটি তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় নতুন করে দেশে যৌতুক-নির্যাতন এবং নারীর নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমাজকর্মীদের মতে, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এই ধরনের অপরাধ বন্ধ করা কঠিন হবে।
বর্তমানে ত্বিষা শর্মার পরিবারের একটাই দাবি—ন্যায়বিচার এবং সত্য উদ্ঘাটন।