পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে আবারও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সোমবার নতুন মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে ডিএ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই রাজ্যের লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের নজর এখন নবান্নের দিকে।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা ২২ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। চলতি বছরের বাজেটে রাজ্য সরকার অতিরিক্ত ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিল। তবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় রাজ্যের কর্মীদের ডিএ এখনও অনেক কম। এই কারণেই দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে।
ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকার এবং সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে বহুদিন ধরে আইনি লড়াই চলছে। কয়েক মাস আগে সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া ডিএ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, বকেয়া ডিএ-র একটি অংশ দ্রুত মিটিয়ে দিতে হবে। এরপর থেকেই বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।
সরকারি কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত পুরো বকেয়া ডিএ মেলেনি। তাই নতুন সরকারের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। বিশেষ করে নতুন মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোনও বড় ঘোষণা হতে পারে কি না, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সোমবারের বৈঠকে শুধু ডিএ বৃদ্ধি নয়, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ চালু করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে সরকার প্রাথমিক পরিকল্পনা শুরু করতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে। এর জন্য আলাদা কমিটি গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মচারীদের যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার এখন সেগুলি বাস্তবায়নের পথে এগোতে চাইছে। তাই ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপও বাড়ছে।
সরকারি কর্মচারীদের আশা, আজকের বৈঠকের পর সরকার ডিএ বকেয়া মেটানো এবং ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট রোডম্যাপ জানাতে পারে। যদিও এখনও সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা হয়নি, তবুও প্রশাসনিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
ডিএ ইস্যু এখন শুধু আর্থিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার।
উপসংহার
আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠক পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। ডিএ বৃদ্ধি, বকেয়া পরিশোধ এবং সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।